লেবু ডাল

আজকে বলব ভীষণ ভালো স্বাদের একটু অন্যরকমের ডালের রেসিপি।

উপকরণ – মুগের ডাল ২০০ গ্রাম, ১ ইঞ্চি আম-আদা, গন্ধরাজ লেবু ১ টি, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, শুকনো লংকা, পাঁচ ফোড়ন, নুন স্বাদমতো, চিনি ১/২ চা চামচ, সরিষার তেল ১ চা চামচ

প্রনালী – প্রথমে মুগের ডালকে হাল্কা করে ভেজে নিতে হবে। এবার ডালটা ভালো করে ধুয়ে ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন।এখন ডাল সিদ্ধ করার জন্য পরিমাণ মতো জল, হলুদ গুঁড়ো, নুন ও কুচোনো আম-আদা দিয়ে গ্যাসে বসিয়ে দিন। ডাল ঠিকমতো সিদ্ধ হয়ে গেলে ভালো করে ডালটাকে ঘেঁটে নিন। এবার গ্যাসে কড়াই বসিয়ে সর্ষের তেল দিন। তেল গরম হলে পাঁচফোড়ন শুকনো লঙ্কা দিন। ফোঁড়নের একটু গন্ধ ছাড়লেই সিদ্ধ করে রাখা ডাল দিয়ে দিন। ডাল ফুটে উঠলে চিনি দিয়ে মিনিট ৩-৪ফুটিয়ে নিন। সামান্য ঘি দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন। এবার যে পাত্রে পরিবেশন করবেন সেই পাত্রে ডাল ঢেলে রাখুন। লেবুটাকেগোল গোল করে কেটে ওপর থেকে দিয়ে দিন। মিনিট ১০ ঢেকে রেখে পরিবেশন করুন।

গ্রীষ্মে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

 

 

Continue Reading

ভালো জীবনযাপনের ৭ টি উপায়

জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা সত্যিই বেশ দুর্বিসহ পথ। তবে এই পথে একবার সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারলেই কিন্তু কেল্লা ফতে।আজকের ব্লগে আমি বলব সেরকম ৭টি উপায় যেগুলি আপনাকে একটি নতুন ও উন্নতমানের একটি জীবনযাত্রার সহায়ক হবে।চলুন শুরু করা যাক:

১.Meditation– যখন আপনি একজন মা এবং আপনাকে meditation করতে হবে তখন এটি সত্যিই সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ।আমার জন্য প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংগ্রাম ছিল . যখনই আমি meditation শুরু করি তখনই আমার মেয়ে আমার কাছে এসে খেলতে বলে। তাই আমি সকালে meditation শুরু করেছি যখন সে ঘুমায় এবং এটি আমার জীবনের জন্য একটি বাস্তব পরিবর্তন ছিল। Meditation আমার জীবনের পুরো মানেই বদলে দিয়েছে। Meditation একটি পরাবাস্তব অনুভূতি।আপনার শ্বাসের উপর মনোনিবেশ করা এবং আপনার মনকে শিথিল করা আপনার মনকে এত শক্তিশালী এবং পূর্ণ উদ্যম করে তোলে। এটি আমাকে শক্তি, ধৈর্য এবং একাগ্রতা দেয় যা আগে কখনও হয়নি। এই অভ্যাসটি আপনার জীবনধারা পরিবর্তন করার সেরা উপায়। মাত্র 30 মিনিটের meditation আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

২.বই পড়া – আমি ছোটবেলা থেকেই বই-আসক্ত ছিলাম কিন্তু ধীরে ধীরে বই পড়া আমার জন্য উপলক্ষ হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগতজীবন, পেশাগত জীবন আমাদের এতটাই সম্পৃক্ত করে তোলে যে বই পড়া আমাদের জীবনের একটি অযৌক্তিক অভ্যাসেপরিণত হয়এবং আমরা ক্রমশ হতাশ করে তোলে। তাই আমাদের উচিত আমাদের পুরো দিনটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা যেপ্রতিদিন সকালে আমাদের সকালের চা/কফি খাওয়ার সময়, আমরা কিছুক্ষণ পড়ি যা আমাদের জীবনে সততই একটি বিশালপরিবর্তন আনতে পারে। ক্রমশ সেই সময়টিই দেখবেন হয়ে উঠবে দিনের সেরা সময়ের একটি। আর আপনার শরীর ? মন ভালো থাকলে শরীর তো ভালো থাকবেই।

৩.স্বাস্থ্যকর পাত্র ব্যবহার করা – সঠিক রান্নার পাত্র নির্বাচন করা মানে সুস্থ জীবনযাত্রার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া। উপযুক্তপাত্রের ব্যবহার জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। খাবারের সর্বোচ্চ পরিমাণে আয়রন শোষণের জন্য লোহার পাত্রব্যবহার শুরু করুন। Cast iron এর কড়াই, skillet ব্যবহার বাড়ানো উচিত । এগুলি বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করা যেতেপারে এবং এমনকি প্রজন্মের মধ্যেও চলে যেতে পারে। এছাড়া আপনার সমস্ত রন্ধনসম্পর্কীয় কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার বন্ধ করে দিন এবং পাতলা স্টীলের পাত্র যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে রান্নাঘরে কিছু মাটিরপাত্রও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করুন।

৪.প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো – এটি একটি সহজ কাজ নয় কিন্তু আমরা যদি ধীরে ধীরে আমাদের জীবনে বায়োডিগ্রেডেবলউপাদানগুলি যোগ করি, এটা সত্যিই আমাদের জীবনের এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।এটা সামান্য কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব নয় কারণ আমরা নিজেদেরকে হয়ত  পাল্টাতে পারি কিন্তু আমাদের সমাজকে পারি না।সবাই পরিবতর্ন আনতে পারে না কিন্তু সামান্য পদক্ষেপই বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। যখনই আমরা স্থানীয় দোকানে যাই বাবিক্রেতারা আসে তখনই আমি কাপড়ের ব্যাগ বা পাটের ব্যাগ যদি নিয়ে যাই তবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে। আপনারা কি জানেনযে বিশ্বের মহাসাগরে আবিষ্কৃত দূষণের প্রাধান উপকরণ হল প্লাস্টিক। সমস্ত সামুদ্রিক ডেট্রিটাসের 80% পর্যন্ত প্লাস্টিক রয়েছে।প্লাস্টিক উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ বিষাক্ত এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। প্লাস্টিকের মতো সীসা, ক্যাডমিয়াম এবংপারদের রাসায়নিক সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে আসতে পারে। এই টক্সিনগুলি ক্যান্সার, জন্মগত অক্ষমতা, ইমিউন সিস্টেমেরসমস্যা এবং শৈশব বিকাশের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৫.Nuts এবং Seeds – কিছু মানুষ বাদাম এড়িয়ে চলে কারণ তাদের মধ্যে fat বেশি থাকে। কিন্তু বাদাম এবং বীজ অবিশ্বাস্যভাবে পুষ্টিকর। এগুলো প্রোটিন, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং খনিজ দ্বারা পরিপূর্ণ। বাদাম আপনাকে ওজন কমাতে এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে । উপরন্তু, একটি বৃহৎ পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বাদাম এবং বীজ কম খাওয়ার সাথে হৃদরোগ, স্ট্রোক, বা টাইপ 2 ডায়াবেটিস থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

৬.Processed Food – Processed food বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড হল এমন খাবারযাতে উপাদান থাকে যা তাদের আসল ফর্ম থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। এগুলিতে প্রায়শই যোগ করা হয় চিনি, উচ্চপরিশোধিত তেল, লবণ, প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম মিষ্টি, রঙ এবং স্বাদের মতো সংযোজন থাকে। উদাহরণ স্ন্যাক, কেক, ফাস্ট ফুড, হিমায়িত খাবার, চিপস অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলি অত্যন্ত সুস্বাদু, যার অর্থ এগুলি সহজেই অতিরিক্ত খাওয়া হয় এবংমস্তিষ্কে পুরস্কার-সম্পর্কিত অঞ্চলগুলিকে সক্রিয় করে, যা অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ এবং ওজন বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করতেপারে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চ খাদ্য স্থূলতা, টাইপ 2 ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। Fat, refined চিনি এবং পরিশোধিত শস্যের মতো নিম্নমানের উপাদানগুলি ছাড়াও, এগুলিতে সাধারণত ফাইবার, প্রোটিন এবংমাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট কম থাকে। এইভাবে, তারা বেশিরভাগ empty ক্যালোরি সরবরাহ করে।

৭.ঘুমের আগে উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলুন- যখন আপনি উজ্জ্বল আলোর সংস্পর্শে আসেন, যেটিতে নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকে – সন্ধ্যায়, এটি আপনার ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। আপনার নীল আলোর এক্সপোজার কমাতে সাহায্য করার কিছু উপায় হল নীল আলো ব্লকিং চশমা পরা – বিশেষ করে যদি আপনি দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার বা অন্য ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার করেন – এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে 30 মিনিট থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত ডিজিটাল স্ক্রিন এড়িয়ে চলা । এটি আপনার শরীরকে স্বাভাবিকভাবে মেলাটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে এবং সন্ধ্যার সাথে সাথে, আপনাকে আরও ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে।

আশা করি এই ব্লগটির দ্বারা আপনি কিছু উপকার পাবেন এবং একটি সুন্দর জীবনযাত্রা আপনার জীবনের পাথেয় হোক।

Continue Reading

পয়লা বৈশাখের আগে ঘরের একঘেঁয়েমি কাটিয়ে উঠুন নিমেষেই

বাড়ি সুন্দর করে সাজাতে কে না ভালোবাসে। আর কেউ যদি আমার মতো ঘর সাজানোর ব্যাপারে খুঁতখুঁতে হয় তবে তো আরকথাই নেই। এমনকি বেড়াতে গেলে ভাড়ার হোটেলও অনুপ্রেরণা দেয় গৃহসজ্জার। সত্যিই তো। আপনি যে কোনো জায়গা থেকেইবা যে কোনো কিছু থেকেই শিখতে পারেন। আমার আজকের ব্লগ গৃহসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিয়ে । ঘরের রং থেকেটুকটাক আসবাবের স্থান পরিবর্তন যা ঘরের একঘেঁয়েমিকে কাটিয়ে তোলে নিমেষেই । আসুন ঘরের রং দিয়েই শুরু করা যাক। কেউ ঘরের রং খুব উজ্জ্বল পছন্দ করেন আবার কেউ করেন না।

ঘরের রং করার ক্ষেত্রে খুব উজ্জ্বল রং যদি আপনার পছন্দের না হয়, তবে আপনার ঘরকে আপনি Scandinavian theme একরতে পারেন। Scandinavian theme এ ঘর সাজানোর সময় যে বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখবেন:

  • স্ক্যান্ডিনেভিয়ান বাড়ি সাধারণত সাদা, ধূসর এবং ট্যান রঙের প্যালেটেই তৈরি হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে একটি স্ক্যান্ডি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে রঙ থেকে মুক্ত  হয়। কিছু pop colour ব্যবহার করা যেতেই পারে।
  • হালকা রঙের কাঠের মেঝে এবং কাঠের আসবাবপত্র ব্যবহার করা যায় যা যেকোনো বাড়িতে প্রশান্তি এনে দেয়।
  • অগোছালো জিনিসপত্র যেকোনো  বাড়িতেই কাম্য নয়, এক্ষেত্রেও তাই। প্রকৃত পক্ষে আরামদায়ক পরিবেশ দেওয়ার জন্য জিনিস গুলিকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
  • Scandinavian theme এ বাড়ি সাজাতে হলে সামান্য হলেও সবুজের ছোঁয়া রাখতে হবে। Scandinavian theme এপ্রকৃতির প্রতি ভালবাসা তাদের অভ্যন্তর নকশা শৈলীতেও প্রতিফলিত হয়। তাজা ফুল এবং ইনডোর প্ল্যান্ট তাই এই theme এর গৃহসজ্জায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
  • আপনি যদি কখনও Scandinavian বা নর্ডিক দেশে গিয়ে থাকেন তবে আপনি সম্ভবত তাদের অন্ধকার শীতের সাথেসাথে তাদের সত্যিই রৌদ্রজ্জ্বল গ্রীষ্মের সাথে পরিচিত। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার জানালাগুলি বড় এবং সর্বাধিক আলো দেওয়ারজন্য রাখা হয়। ভারতের মতো আরও গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর জন্য, বড় জানলা রাখতেই পারেন।

এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল করে আপনার ঘরের একঘেঁয়েমিকে অনায়াসেই কাটিয়ে উঠতে পারেন। কিছু পরিবর্তন বাড়ির ভোল পাল্টে দিতে পারে একদম। তাই পয়লা বৈশাখের আগেই বাড়ির টুকটাক বদল করে ফেলুন।

Continue Reading